হাদি হত্যার মূল হোতা বাপ্পীর অবস্থান কলকাতার রাজারহাটে নিশ্চিত করল ডিবি
বহুল আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ Osman হাদি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী "তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী" ভারতে আত্মগোপন করে আছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমানে কলকাতার রাজারহাট এলাকায় অবস্থান করছেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। রাজারহাটের মেঠোপাড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের ফ্ল্যাটে তিনি প্রায় এক বছর ধরে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আত্মগোপন করে আছেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর মামলার তদন্তে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে।
দুবাই নাটকের নেপথ্যে সত্য
এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ও শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এর আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তায় তিনি নিজেকে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছিলেন যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তবে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে ফয়সালের ভিডিওটি আসল হলেও তার অবস্থান দুবাই নয়। সুনির্দিষ্ট তদন্তের ভিত্তিতে জানা গেছে যে ফয়সাল আসলে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ফলে অপরাধীদের অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে।
অভিযোগপত্র ও পলাতক আসামিরা
হাদি হত্যা মামলায় ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা পুলিশ মোট ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এই ১৭ জনের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে "পাঁচজন পলাতক আসামি", যাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী বাপ্পী এবং শুটার ফয়সাল রয়েছেন, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। পলাতক অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ এবং মানব পাচারকারী ফিলিফ স্নাল। এছাড়াও ফয়সালের বোন জেসমিনও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পলাতক হিসেবে তালিকায় রয়েছেন।
পল্টনের সেই রক্তাক্ত দুপুর
উল্লেখ্য যে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর "পল্টন এলাকায়" শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করা হয়। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় কিন্তু সেখানেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং এই ঘটনা দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলে। তদন্তে উঠে এসেছে যে পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পীই ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান নির্দেশদাতা।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
গোয়েন্দা প্রধান জানিয়েছেন যে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীরা দেশের বাইরে থাকলেও তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে আত্মগোপন করে থাকলেও তাদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে ডিবি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাপ্পী এবং ফয়সালকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।