হালিশহরের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪, চিকিৎসাধীন আরও ৫
চট্টগ্রামের হালিশহরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হলো। জীবনযুদ্ধের কঠিন লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ৩৫ বছর বয়সী গৃহবধূ পাখি আক্তার। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে হালিশহরের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪ জনে।
অসহ্য দহনে নিভে যাওয়া এক বুক স্বপ্ন
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাখি আক্তারের শরীরের শতভাগই আগুনে দগ্ধ হয়েছিল। পর্তুগাল প্রবাসী সামির আহমেদ সুমনের স্ত্রী পাখি আক্তার ছিলেন পরিবারের এক প্রাণোচ্ছ্বল সদস্য। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে পুরো পরিবারে এখন শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। একটি সুখী পরিবার কীভাবে মুহূর্তের আগুনের লেলিহান শিখায় শেষ হয়ে গেল, তা ভেবে শিউরে উঠছেন স্বজনরা।
ভয়াল সেই ভোরের স্মৃতি ও মৃত্যুর মিছিল
গত সোমবারের ভোরে একটি সাজানো-গোছানো সংসারে হানা দিয়েছিল সর্বগ্রাসী আগুন। অগ্নিদগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হলেও পথেই প্রাণ হারান ৪০ বছর বয়সী নূরজাহান আক্তার রানী। এরপর মঙ্গলবার সকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তাঁর কিশোর ছেলে শাওন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই দুপুর নাগাদ প্রাণ হারান পরিবারের আরেক সদস্য সামির আহমেদ। একের পর এক প্রিয়জনের বিয়োগান্তক ঘটনায় এখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন হালিশহরের বাসিন্দারা।
মৃত্যু উপত্যকায় জীবনের স্পন্দন ফেরার প্রতীক্ষা
হাসপাতালের বিছানায় এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্য। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন রানীর স্বামী সাখাওয়াত, তাঁদের সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা, আয়েশা ও ফারহান আহমেদ আনাছ। এছাড়াও সাখাওয়াতের ভাই শিপন হোসাইনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইনস্টিটিউটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকা এই পাঁচজনের জীবন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের শ্বাসনালী দগ্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পরিশেষে বলা যায়, হালিশহরের এই অগ্নিকাণ্ড আমাদের গৃহস্থালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তোলে। আগুনের উৎস সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও গ্যাস লিকেজ বা শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই শোকাতুর পরিবারের জন্য এখন কেবল অলৌকিক সুস্থতার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার যাতে এই বিপর্যয়ে পড়া পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়, এটাই এলাকাবাসীর দাবি। মৃতদের আত্মার শান্তি কামনায় এলাকায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।