গাজার ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হামাস, মানতে হবে ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই গাজার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকা শাসন করে আসা হামাস অবশেষে ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা একটি স্বাধীন টেকনোক্র্যাট সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পেছনে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। রবিবারের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দুই যুগের শাসনের অবসান
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম নিশ্চিত করেছেন যে, গাজার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে 'স্পষ্ট ও চূড়ান্ত' হিসেবে অভিহিত করে জানান, শান্তিচুক্তি কার্যকর হলেই কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং গাজায় চলমান দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্তৃত্ব একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে
হামাসের ক্ষমতা ত্যাগের ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে, গাজার শাসনভার আসলে কার হাতে ন্যস্ত হবে। প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট কমিটির সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’ নামক একটি নতুন সংস্থাকে। যদিও এই বোর্ড এখনও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি, তবে এর গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাজার সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে এই নতুন নেতৃত্বের রূপরেখার দিকে।
ইসরায়েলের প্রস্তাব ও প্রতিক্রিয়া
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ইতিমধ্যেই ‘বোর্ড অব পিস’-এর মহাপরিচালক পদে বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভের নাম প্রস্তাব করেছে। ম্লাদেনভ এর আগেও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই এই অঞ্চলে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ম্লাদেনভের মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিকের অন্তর্ভুক্তি শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে হামাস বা ফিলিস্তিনি অন্যান্য দলগুলো এই প্রস্তাবে কতটা ইতিবাচক সাড়া দেবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
আগামীর গাজা ও ট্রাম্পের ভূমিকা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিচুক্তিকে কেন্দ্র করে গাজার ভবিষ্যৎ রাজনীতি এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধক্লান্ত গাজাবাসীর জন্য এটি কি সত্যিই কোনো নতুন ভোরের সূচনা করবে, নাকি এটি কেবলই আরেকটি রাজনৈতিক চাল, তা সময় বলবে। হামাসের এই শর্তযুক্ত সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশ্বনেতারা এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আশা করছেন যে, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতির পথেই সমাধান মিলবে। গাজার আকাশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ সরে গিয়ে শান্তির সুবাতাস বইবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।