ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৯ জন আহত
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামান্য একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। শুক্রবার রাতে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।পোস্ট ঘিরে উত্তেজনাস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজার ও দরবেশ বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তার ইট তুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনার দায় চাপিয়ে এনসিপির এক নেতা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা দরবেশ বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করতে গেলে বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়।এনসিপির গুরুতর অভিযোগসংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চানন্দী ইউনিয়নের নদীর তীরে রাস্তা কেটে ইট ও বালু বিক্রি করছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সারোয়ার মাঝি। এর প্রতিবাদ করে ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। সংঘর্ষের সময় তাদের অন্তত ৮টি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে এবং হামলায় এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেনসহ ৭ জন আহত হয়েছেন।বিএনপির ভিন্ন ভাষ্যঅন্যদিকে বিএনপির ভাষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাদের দাবি স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করছিলেন। সে সময় এনসিপির লোকজন ভিডিও ধারণ করে ‘মাটি ও ইট বিক্রি করা হচ্ছে’ বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা। প্রতিবাদ করলে এনসিপির লোকজন স্থানীয় মুরুব্বিদের ওপর মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, যাতে বিএনপি নেতা সারওয়ার ও প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।প্রশাসনের কঠোর অবস্থানখবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং তারা সতর্ক অবস্থানে আছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।