শাস্তি হিসেবে শীতে পুকুরে ২০ ডুব হেলমেট চোরের
বরিশাল নগরীর বিবির পুকুর পাড় এলাকায় স্থানীয় জনতা এক অভিনব কায়দায় হেলমেট চোরকে শাস্তি দিয়েছেন। সম্প্রতি সদর রোডে মোটরসাইকেল চালকদের মূল্যবান হেলমেট চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, ইউসুফ নামে এক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল থেকে হেলমেট চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। চিরাচরিত গণপিটুনির পরিবর্তে, তারা তাকে এক ভিন্নধর্মী শাস্তির মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
হাড় কাঁপানো শীতের রাতে, ইউসুফকে হাড় কাঁপানো ঠান্ডার বিবির পুকুরের পানিতে ২০ বার ডুব দিতে বাধ্য করা হয়। চোর নিজের অপরাধ স্বীকার করে এই শাস্তিকে মাথা পেতে নেয়। এমন শাস্তি চুরির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনে সহায়ক হবে বলে মনে করা হয়। জনরোষ প্রশমিত করতে এবং একই সঙ্গে একটি শিক্ষামূলক বার্তা দিতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল।
কনকনে শীতে ‘জলজ’ দণ্ড
মঙ্গলবার রাতে নগরীর বিবির পুকুর পাড় এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের মতে, ইউসুফ নামের এই যুবক সদর রোডে পার্ক করা একটি মোটরসাইকেল থেকে হেলমেট চুরি করার সময় ধরা পড়ে। জনতা তাকে মারধর না করে একটি ব্যতিক্রমী শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কনকনে শীতের রাতে তাকে ঠান্ডা পানিতে ২০টি ডুব দিতে বলা হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত ইউসুফ তার ভুল স্বীকার করে এই দণ্ড গ্রহণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিনব শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকার একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। এটি প্রচলিত শাস্তির পদ্ধতির একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শাস্তির শেষে মানবিকতার অনন্য নজির
জানা গেছে, ইউসুফ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে নগরীর সাগরদি এলাকায় বসবাস করেন। শাস্তির পর্ব শেষ হওয়ার পর, শীতের ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা ওই চোরের প্রতি স্থানীয়রা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তারা তার জন্য ফুটপাতের দোকান থেকে নতুন প্যান্ট এবং টি-শার্ট কিনে দেন। এরপর তাকে বাড়ি পাঠানো হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
চুরির শাস্তির পাশাপাশি এমন মানবিক আচরণের ঘটনা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে। এটি দেখায় যে, অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি মানবিকতাও বজায় রাখা সম্ভব। এই ঘটনাটি সমাজে ন্যায়বিচার ও সহানুভূতির এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।