সর্বশেষ
Loading breaking news...

বেলজিয়ামের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত: রমজানের আলোকসজ্জায় ঝলমলে ঘেন্ট, ইউরোপে ঐক্যের বার্তা!

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বেলজিয়ামের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই প্রথমবার ঘেন্ট শহরের দুটি ব্যস্ততম সড়ক রমজান মাস উপলক্ষে বিশেষ আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। মুসলমানদের পবিত্র সিয়াম সাধনার এই মাসকে ঘিরে এমন উদ্যোগ কেবল একটি উৎসবের আমেজই আনেনি, বরং বেলজিয়ান সমাজে ধর্মীয় সংহতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঘেন্ট মসজিদ সমিতি (ভিজিএম)-এর নেতৃত্বে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

লন্ডন থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা

ঘেন্ট মসজিদ সমিতির চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব ওমর এই উদ্যোগকে 'সমগ্র বেলজিয়ামের প্রথম' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, চার বছর আগে লন্ডনে অনুরূপ রমজান সজ্জা দেখার পরই তাঁদের মনে এই ধারণা আসে। পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বেলজিয়ামে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহসহ সমস্ত দায়িত্ব সমিতির ওপর অর্পণ করেন। এই আলোকসজ্জার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই বহন করেছেন।

ইউরোপের প্রেক্ষাপটে সড়ক সজ্জার এমন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। রমজানের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত এই আলোকসজ্জা স্থায়ী হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে এক আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। ঘেন্টের এই সফল উদ্যোগ এখন বেলজিয়ামের অন্যান্য বড় শহরগুলোর জন্যও একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে উদযাপনের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

ইউরোপে ঐক্যের নতুন বার্তা

ঘেন্ট মসজিদ সমিতি তুরস্ক, মরক্কো, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। জনাব ওমর বলেন, “আমরা এমন কার্যক্রম আয়োজনের চেষ্টা করি, যা ঘেন্টের সাধারণ জনগণকেও একত্র করে।” তিনি সমিতির বার্ষিক বৃহৎ ইফতার অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বাসিন্দারা একসঙ্গে ইফতার করেন, যা সমাজের বৈচিত্র্যময় অংশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।

আলোকসজ্জায় সজ্জিত সড়কগুলো তাদের প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য সুপরিচিত। ওমরের মতে, রমজানের সন্ধ্যায় এসব এলাকা বিশেষভাবে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। এই উদ্যোগ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জনাব ওমর আশা প্রকাশ করেন যে, এটি বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আরও সহযোগিতামূলক সহাবস্থান গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং সমগ্র ইউরোপে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেবে।

আরও পড়ুন