ইয়াবা দমনে ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের লাগাম টানা এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই ইয়াবা সমস্যার জাল এতই বিস্তৃত যে, কেবল সাধারণ প্রশাসনিক পদক্ষেপে এর বিস্তার রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্য হওয়ায় এই মাদক নির্মূলের দায়ভার এখন সরাসরি তার কাঁধেই বর্তাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের প্রথম ছয় মাসই বলে দেবে তিনি এই ‘মাদক সাম্রাজ্য’ ভাঙতে কতটা সফল হন।
মরণনেশার রুট ও নেপথ্যের কারিগর
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন নাফ নদী ও দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবার বিশাল চালান দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে। গত দুই বছরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে প্রতিদিন লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করলেও বাজারে এর সহজলভ্যতা বিন্দুমাত্র কমেনি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ভেতরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এই পাচার বাণিজ্যকে আরও ত্বরান্বিত করছে। মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের স্থানীয় লিংকগুলো এখন প্রশাসনের জন্য প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাদক পাচারের এই অন্ধকার চেইন ভাঙতে এবার প্রচলিত অপারেশনাল মডেলে আমূল পরিবর্তনের আভাস মিলছে। মন্ত্রণালয় এখন সীমান্তে ড্রোন নজরদারি এবং ১২টি প্রধান রুটে বিশেষ মোবাইল ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে সিআইডি, মাদক অধিদপ্তর ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি এখন আলোচনার তুঙ্গে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন, পাচার শনাক্ত করতে ‘ড্রাগ ডিটেকশন ডগ’ বা প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহারের বিকল্প নেই।
দারিদ্র্যের মরণফাঁদ ও বিকল্প কর্মসংস্থান
কেবল আইন প্রয়োগ নয়, মাদক দমনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন জেলা পুলিশ সুপার। তার মতে, স্থানীয় প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করলে এই ইয়াবা চক্র ভাঙা অসম্ভব। অভাবের তাড়নায় অনেক সময় নিম্নবিত্ত মানুষ ও বেকার যুবকরা মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেয়।
পরিবারগুলো যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, তবে মাদক সিন্ডিকেটের ভিত্তি এমনিতেই দুর্বল হয়ে যাবে। তাই কেবল অভিযানের ওপর নির্ভর না করে যুবকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করাই হবে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।