পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে রদবদল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বড় ধরনের রদবদল নিয়ে এল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। ডিআইজি থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার মোট ১৪ জন কর্মকর্তাকে এই আদেশের আওতায় আনা হয়েছে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত পুলিশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে আরও "গতিশীল করবে" বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএমপি ও সিআইডিতে রদবদল
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সিআইডির শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বের বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিআইডির ডিআইজি এস এম ফজলুর রহমানকে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমে এবং মো. সাজ্জাদুর রহমানকে এপিবিএনের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে "মোহাম্মদ ওসমান গণি ও সানা শামীনুর রহমানকে" ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে পদায়ন করা হয়েছে। এই রদবদল রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সমীকরণকে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের নতুন বিন্যাস
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনেও এসেছে নতুন মুখের পদচারণা ও দায়িত্বের বদল। ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি খন্দকার খালিদ নুরকে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার বা "ডিসি হিসেবে নিয়োগ" দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী পিটিসির এসপি আসমা বেগম রিতাকে এপিবিএন সদর দপ্তরের কমান্ড্যান্ট হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া খুলনা পিটিসির এসপি সোমা হাপাংকে ময়মনসিংহের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আদেশের আকস্মিক বাতিলকরণ
বদলিের এই দীর্ঘ তালিকায় কেবল নতুন নিয়োগ নয়, বাতিল করা হয়েছে পূর্বের কিছু আদেশও। স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে ডিএমপির ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। একইভাবে "রেলওয়ে পুলিশের এসপি মো. সাইফুল হককে" পুলিশ সদর দপ্তরে বদলির আদেশটিও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করবে। কোনো ধরণের জটিলতা এড়াতেই এই আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের এই শীর্ষ রদবদল দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন আবহের সূচনা করবে। কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব এবং কাজের দক্ষতা বিবেচনা করেই এই বিশাল পরিবর্তনের ছক আঁকা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এই কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও "জনবান্ধব ও দক্ষ" করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই ধারাবাহিকতা পুলিশ বাহিনীকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।