সর্বশেষ
Loading breaking news...

'সম্পর্ক ভাঙতেই হবে'—ফোন পাওয়ার ৩ ঘণ্টায় রশিতে ঝুলল অনার্স পড়ুয়া আসিফ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

পরিবারের চাপে সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয়—প্রেমিকার কাছ থেকে এমন চরম প্রত্যাখ্যানের অভিমান সহ্য করতে না পেরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন অনার্স পড়ুয়া আসিফ (২৩)। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায়। নিহত আসিফ চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী।

সকালে ছেলের ঘরে যা দেখলেন মা

আসিফের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসিফ পরের দিন সকালেই চট্টগ্রাম কলেজে যাওয়ার কথা ছিল। তবে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টা নাগাদ পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লা ঘোনা এলাকায় নিজ ঘরে গলায় রশি পেঁচিয়ে আসিফ আত্মহত্যা করেন। প্রতিদিনের মতো আসিফের মা সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ঘুম থেকে ডাকার জন্য ছেলের ঘরের দরজায় যান।

আসিফের মা জানান, তিনি দরজায় বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হলে তিনি কক্ষের জানালা দিয়ে উঁকি দেন। উঁকি দিয়েই দেখেন, তার ছেলে আসিফ ঘরের মধ্যে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। আসিফের চাচা নাছির উদ্দীনও একই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের চাপেই ছিন্ন প্রেমের বাঁধন

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আসিফের সঙ্গে একই ইউনিয়নের এক কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমিকার পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তার ওপর সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়। ঘটনার দিন গভীর রাতে আসিফকে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার কথা জানানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই চরম প্রত্যাখ্যানের অভিমান থেকেই আসিফ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পুলিশের বক্তব্য ও ময়নাতদন্ত

খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসিফের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খাইরুল আলম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—এটি প্রেমঘটিত কারণেই আত্মহত্যা। বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন