শ্রীপুরে বীভৎস হত্যাকাণ্ড: পরিচয় মুছে দিতে যুবকের মরদেহ পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বীভৎস মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার বরমী-এমসি বাজার সড়কের পাশ থেকে পুলিশ যুবকের আগুনে ঝলসানো লাশটি উদ্ধার করে। লাশের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দুর্বৃত্তরা কেবল তাকে হত্যাই করেনি, বরং তার পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে শরীর পুড়িয়ে দেওয়ার মতো পৈশাচিক পথ বেছে নিয়েছে।
সড়কের পাশে পড়েছিল নিথর দেহ
শ্রীপুরের বৃন্দাবন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বরমী-এমসি বাজার সড়কের পাশে একটি পোড়া ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহটি আগুনে পোড়া ছিল এবং গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়, যা শ্বাসরোধ করে হত্যার ইঙ্গিত দেয়। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা দ্রুত শ্রীপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল কাইয়ুম জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা এখন পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
প্রমাণ লোপাটের নীল নকশা
পুলিশের ধারণা, দুর্বৃত্তরা যুবকটিকে অন্য কোনো স্থানে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এবং পরে জনহীন এই স্থানে লাশটি নিয়ে আসে। হত্যার প্রমাণ লোপাট এবং নিহতের পরিচয় যাতে কেউ চিনতে না পারে, সেজন্যই তারা পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মুখমণ্ডল ও শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এটি পেশাদার খুনি বা পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘটা কোনো ঘটনা হতে পারে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন।
শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নৃশংস এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তার অভাববোধ তৈরি করেছে এবং তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।