ডার্ক ওয়েবের ছবি থেকে নিখুঁত সূত্র: ইটের সামান্য অংশ যেভাবে উদ্ধার করল নির্যাতিত শিশুকে
আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক দুঃসাহসিক অভিযানে 'লুসি' নামের এক নির্যাতিত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডার্ক ওয়েবের অন্ধকার জগতে হারিয়ে যাওয়া এই শিশুর সন্ধান মিলেছে একটি সাধারণ ইটের সূত্র ধরে। তদন্তকারীরা যখন প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন একটি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা দেয়ালের ইটই হয়ে ওঠে উদ্ধারের প্রধান চাবিকাঠি।
পরিচয়হীনতার বেড়াজালে ডার্ক ওয়েব
তদন্তকারী দল এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মে লুসির কিছু ছবি খুঁজে পায়। অপরাধীরা ছবির মেটাডেটা এমনভাবে মুছে ফেলেছিল যে তার অবস্থান শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অফিসার গ্রেগ স্কয়ার এবং তার দল দিনের পর দিন প্রতিটি ছবি বিশ্লেষণ করেও কোনো কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না। তবে তারা হাল না ছেড়ে ছবির প্রতিটি ক্ষুদ্র বস্তুর ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখেন।
ইটের গায়ে লুকিয়ে ছিল গোপন ঠিকানা
ছবির একটি বিশেষ সোফা দেখে তারা ৪০ হাজার ক্রেতার একটি তালিকা পান। কিন্তু মোড় ঘোরে যখন তারা দেয়ালে একটি বিশেষ ধরনের ইট দেখতে পান। বিশেষজ্ঞ জন হার্প ইটটি দেখে সেটিকে 'ফ্লেমিং আলামো' ব্র্যান্ডের ইট হিসেবে শনাক্ত করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে এই ইটগুলো নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলেই বেশি ব্যবহৃত হতো, কারণ এগুলো ওজনে ভারী হওয়ায় দূরে পাঠানো হতো না।
এই মূল্যবান তথ্যের ভিত্তিতে সোফা ক্রেতাদের তালিকা থেকে হার্পের কারখানার ১০০ মাইলের মধ্যে থাকা গ্রাহকদের আলাদা করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সরকারি রেকর্ড ঘেঁটে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে লুসি তার মায়ের প্রেমিকের বাড়িতে বন্দি আছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাকে পরবর্তীতে ৭০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা সেই ভয়াবহ নির্যাতনের অবসান ঘটে অদম্য তদন্তের মাধ্যমে। বর্তমানে বিশের কোঠায় থাকা লুসি গত গ্রীষ্মে অফিসার স্কয়ারের সাথে দেখা করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সেই দুঃসহ সময়ে তিনি কেবল মুক্তির জন্য প্রার্থনা করতেন, যা আজ বাস্তবে ধরা দিয়েছে।