সর্বশেষ
Loading breaking news...

বাজারজাত ডিটক্স পণ্য ছাড়াই আপনার শরীর প্রাকৃতিকভাবে বিষমুক্ত রাখার কার্যকরী কৌশল

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

উৎসব বা বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের পরে শরীরকে বিষমুক্ত করার তাগিদে অনেকেই এখন নামীদামি ডিটক্স পানীয়ের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করছেন। তবে বর্তমান সময়ের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বর্তমান টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ ডিটক্স পদ্ধতির কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শরীরের ভেতরেই রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং স্বয়ংক্রিয় এক পরিশোধন ব্যবস্থা যা কোনো কৃত্রিম জুস ছাড়াই কাজ করছে। "লিভার, কিডনি, ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক প্রাকৃতিক উপায়েই বর্জ্য অপসারণের মূল দায়িত্ব পালন করে।" এই অঙ্গগুলোকে সঠিকভাবে সচল রাখাই দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার আসল চাবিকাঠি।

ফাইবারের জাদুকরী ভূমিকা

শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশনে খাদ্যতালিকায় থাকা আঁশ বা ফাইবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ অবহেলিত একটি উপাদান হিসেবে পরিচিত। অধিকাংশ মানুষই তাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবার রাখতে ব্যর্থ হন যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রের হজম প্রক্রিয়াকে শুধু মসৃণই রাখে না বরং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ক্ষতিকর রাসায়নিক বের করে দেয়। আপেল, ওটস, ডাল এবং সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খেলে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। "প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ডাল-ভাত রাখলেই ফাইবারের ঘাটতি পূরণ সম্ভব।"

পানির অপরিহার্যতা জানুন

জল হলো শরীরের বর্জ্য পরিশোধনের প্রধান মাধ্যম এবং পর্যাপ্ত পানি ছাড়া কিডনি কখনোই সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। পানির অভাব দেখা দিলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমতে শুরু করে যা পরবর্তীতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক অন্তত দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। মনে রাখতে হবে যে কেবল সাধারণ পানি নয় বরং চা, কফি এবং রসালো ফল থেকেও শরীর প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পায়। "কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে বিশুদ্ধ পানির কোনো বিকল্প নেই।"

ব্যায়ামের সঠিক প্রভাব

সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা আছে যে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে সব বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়। তবে বিজ্ঞান বলছে ঘাম মূলত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং বিষ নিষ্কাশনে এর ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য। নিয়মিত ব্যায়াম করার আসল উপকারিতা হলো এটি লিভার ও কিডনিতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। শরীরচর্চা করার ফলে দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমে যা বর্জ্য পরিশোধনের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি গতিশীল ও সহজ করে তোলে। "হাঁটা বা হালকা দৌড়ানোর মতো অভ্যাসগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিশোধন ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে।"

ঘুমের গভীর পরিশোধন

আমাদের ঘুমের সময় মস্তিষ্ক এক গভীর পরিশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় যা দৈনন্দিন সুস্থতার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক থেকে ক্ষতিকর প্রোটিন ও বর্জ্য পদার্থ অপসারিত হয় যা সারাদিনের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে সুস্থ থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায় যে ব্যয়বহুল ডায়েটের চেয়ে নিয়মিত সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই শরীরকে ডিটক্স করার সবচেয়ে কার্যকর এবং পরীক্ষিত উপায়। "সুস্থ ঘুমের মাধ্যমেই শরীরের কোষগুলো পুনরায় সজীব হওয়ার সুযোগ পায়।"

আরও পড়ুন