নাফ নদীতে কোস্ট গার্ডের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পৌনে চার কোটি টাকার ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা আটক
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর বুকে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, এই অভিযানে প্রায় "পৌনে চার কোটি টাকা মূল্যের ৭৫ হাজার পিস ইয়াবা" ট্যাবলেটসহ দুই রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানটি মাদক পাচারকারীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাফ নদীর সীমান্ত এলাকায় পাচার রোধে কোস্ট গার্ড বর্তমানে তাদের টহল আরও জোরদার করেছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
নাটকীয় রাতের অভিযান
গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের টেকনাফ স্টেশন মঙ্গলবার গভীর রাতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। টেকনাফের "নাইট্যংপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে" একটি সন্দেহজনক কাঠের নৌকাকে চ্যালেঞ্জ করে কোস্ট গার্ডের টহল দল। এরপর নৌকাটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৭৫ হাজার পিস ইয়াবার এই বিশাল চালান। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। গভীর রাতের এই নাটকীয় অভিযানে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলেও কোস্ট গার্ডের তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়।
মাদক পাচারে রোহিঙ্গা
কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (নং-২৭) বাসিন্দা। তাদের পরিচয় আব্দুল হাফেজ (২০), পিতা-মৃত সৈয়দ আলম এবং মো. নুর (২২), পিতা- ছৈয়দ আলম বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে "মাদক পাচারের সাথে জড়িত" থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মাদক পাচারে জড়ানোর এই প্রবণতা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
অভিযান শেষে জব্দকৃত ইয়াবা এবং পাচারের কাজে ব্যবহৃত কাঠের নৌকাটি আইনানুগভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আটককৃত দুই মাদক কারবারিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য "টেকনাফ মডেল থানায়" হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মাদক চালানের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে অধিকতর তদন্ত করা হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
কোস্ট গার্ডের সতর্কবার্তা
নাফ নদী দিয়ে মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোস্ট গার্ডের অভিযানগুলো নিয়মিত বিরতিতে পরিচালিত হবে। কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে বাঁচাতে এই ধরনের অভিযানের বিকল্প নেই। বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে মাদক বিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা করার এবং "সন্দেহভাজন গতিবিধি" সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে এখন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক পাচারকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কোস্ট গার্ড।