এলসি ছাড়াই আমদানি সীমা মুক্ত, আসছে ৫ বছরের পুরোনো গাড়িও
দেশের আমদানি বাণিজ্যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫-২৮ মেয়াদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন আমদানি নীতি আদেশের (আইপিও) খসড়ায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে ঋণপত্র বা এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ। বর্তমানে এলসি ছাড়া কেবল পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত পণ্য আনা সম্ভব হলেও, নতুন নীতিমালায় বিক্রয় চুক্তির বিপরীতে যেকোনো পরিমাণের অনুমোদিত পণ্য আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে তাল মেলাতেই এই উদারীকরণের পথে হাঁটছে সরকার।
যানবাহন আমদানিতে বড় শিথিলতা
যানবাহন আমদানির ক্ষেত্রেও আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। "সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে পাঁচ বছরের পুরোনো গাড়ি আমদানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে," যা বর্তমান নীতিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের মতে, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে গাড়ির বয়সসীমা শিথিল থাকায় মধ্যবিত্তরা কম দামে গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
সচিবালয়ের বৈঠকে উঠে আসা বার্তা
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নতুন আমদানি নীতির খসড়া পর্যালোচনা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্টে স্বাক্ষরকারী দেশ। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই বাণিজ্য সহজীকরণের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যা আসছে ও যা নিষিদ্ধ হচ্ছে
নতুন নীতিমালায় পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ১০০ ডেসিবলের বেশি মাত্রার হাইড্রোলিক হর্ন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনের থ্রি-হুইলার, কৃত্রিম সরষের তেল এবং পলিথিন ব্যাগ আমদানি নিষিদ্ধের তালিকায় থাকছে। তবে শর্তসাপেক্ষে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যাটারি রিসাইক্লিং নিশ্চিত করে পুরোনো ব্যাটারি এবং ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া পাম অলিন আমদানিতে বিএসটিআইয়ের সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
শিল্প কাঁচামাল ও রপ্তানি সুরক্ষা
পেট্রো কেমিক্যাল শিল্পের বিকাশে কাঁচামাল হিসেবে ইথাইলিন ও প্রোপাইলিন আমদানির পথ সুগম করা হচ্ছে, যা আগে নিষিদ্ধ ছিল। তবে এ ক্ষেত্রে বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও বিপিসির অনুমোদনের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ায় পণ্য রপ্তানির জটিলতা নিরসনে মিথাইল ব্রোমাইড সংক্রান্ত বিধিনিষেধও শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী পরিবর্তনগুলো দেশবাসীকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।