সর্বশেষ
Loading breaking news...

মহাকাশে ভারতের ১৫ স্যাটেলাইট ধ্বংস ইসরোর ব্যর্থ মিশনের কারণ জানাল সংস্থা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নতুন বছরের শুরুতেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর জন্য এক বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। তাদের বহুপ্রতিক্ষিত পিএসএলভি-সি৬২ মিশনটি অন্তিম পর্যায়ে গিয়ে মারাত্মক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে, যার ফলে মহাকাশেই হারিয়ে গেছে ১৫টি মূল্যবান স্যাটেলাইট। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই স্বপ্নভঙ্গের খবর নিশ্চিত করেছে, যা ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এক বড় ধাক্কা। এই বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসরো বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে।

ব্যর্থতার নেপথ্যে যান্ত্রিক জটিলতা

ইসরো জানিয়েছে যে, রকেটের উৎক্ষেপণের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে বিপত্তি ঘটে ঠিক তৃতীয় ধাপে, যখন রকেটের স্ট্র্যাপ-অন মোটরগুলি থ্রাস্ট বা ধাক্কা দেওয়া শুরু করে। তখনই রকেটের শরীরে অস্বাভাবিক কম্পন ও বিঘ্ন দেখা দেয়, যা নির্ধারিত কক্ষপথ থেকে এটিকে বিচ্যুত করে দেয়। এই বিচ্যুতির চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে মিশনে থাকা ১৬টি পেলোডের মধ্যে ১৫টির সঙ্গেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেগুলি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

ধ্বংসস্তূপের মাঝে অলৌকিক সাফল্য

তবে এই চরম হতাশার মাঝেও এক চিলতে আশার আলো দেখিয়েছে স্পেনভিত্তিক স্টার্টআপ ‘অরবিটাল প্যারাডাইম’। পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের ১৬টি পেলোডের মধ্যে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি স্যাটেলাইট "অণ্বেষা"সহ প্রায় সবকটি ধ্বংস হলেও, স্প্যানিশ সংস্থাটির তৈরি ক্যাপসুল "কেস্ট্রেল ইনিশিয়াল ডেমনস্ট্রেটর" বা "কিড" (KID) অলৌকিকভাবে টিকে গেছে। সংস্থাটি এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছে, মূল রকেট থেকে সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের ক্যাপসুলটি শুধু সচলই হয়নি, বরং পৃথিবী পৃষ্ঠে প্রয়োজনীয় টেলিমেট্রি ডেটা পাঠাতেও সক্ষম হয়েছে।

ভারতের জন্য গভীর শোক

এই ব্যর্থতা ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি বড় ক্ষতি। বিশেষত, ‘অণ্বেষা’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি স্যাটেলাইট হারানো দেশের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যেখানে স্পেনের একটি ছোট স্টার্টআপ তাদের পেলোড রক্ষা করতে পেরেছে, সেখানে ভারতের বেশিরভাগ মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক গভীর চিন্তার বিষয়। এটি ইসরোর ভবিষ্যতের পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন ও আশা

‘অরবিটাল প্যারাডাইম’ বর্তমানে তাদের টিকে যাওয়া ক্যাপসুল ‘কিড’-এর গতিপথ পুনর্গঠনের কাজ করছে। তারা শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনা মহাকাশ গবেষণার ঝুঁকির দিকটি যেমন তুলে ধরেছে, তেমনি ছোট স্টার্টআপগুলোর উদ্ভাবনী সক্ষমতাও প্রমাণ করেছে। ইসরোকে এখন এই ব্যর্থতার গভীর কারণগুলি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের মিশনগুলির জন্য আরও সতর্ক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন