১৬টি বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের ‘ভরসা’ রকেট মুহূর্তে ছিটকে গেল
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অভিযান সূচনাতেই চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলো। উৎক্ষেপণের কিছু মুহূর্ত পরই পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেলের (পিএসএলভি) একটি রকেট নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়েছে। এর ফলে পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ (ইওএস-এন১) সহ মোট ১৬টি মূল্যবান বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামবাহী এই মিশনটি ব্যর্থ বলে বিবেচিত হচ্ছে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের বহুল ব্যবহৃত এই উৎক্ষেপণ যানের জন্য এটি একটি নতুন ব্যর্থতা। এই ঘটনা ইসরোর সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
রকেটের গতিপথ বিচ্যুতি
পিএসএলভি-সি৬২ নামের এই রকেটটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল। এই অভিযানে ভারত, বিভিন্ন বিদেশি স্টার্টআপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি ১৫টি ছোট উপগ্রহের পাশাপাশি প্রধান উপগ্রহ হিসেবে ছিল অত্যাধুনিক ইওএস-এন১। ১৬টি বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম নিয়ে উৎক্ষেপিত এই রকেটটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অবদান রাখার প্রত্যাশা বহন করছিল। অপ্রত্যাশিত বিচ্যুতিতে সেই সকল প্রচেষ্টা ধুলায় মিশে গেল। এই বিপর্যয় ভারতের মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য এক বড় ধাক্কা।
সাফল্যের হার ঝুঁকিতে
এই ব্যর্থতাকে ইসরোর প্রধান উৎক্ষেপণ যান পিএসএলভি-র জন্য গত আট মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় হতাশাজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পঞ্চাশেরও বেশি অভিযানে ৯০ শতাংশের বেশি সাফল্যের হার বজায় রেখে পিএসএলভি এত দিন নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক ছিল। কিন্তু এই সাম্প্রতিক বিচ্যুতি তার সেই দীর্ঘদিনের সুনামে গুরুতর আঘাত হানল। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি ইসরোর প্রকৌশলগত দক্ষতার উপর একটি গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন।
উড্ডয়নের শেষ মুহূর্ত
ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে যে, উড্ডয়নের বেশির ভাগ সময় রকেটটি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছিল। তবে হঠাৎ অপ্রত্যাশিত বিঘ্ন ঘটে এবং রকেটটি তার পূর্বনির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ইসরো একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, পিএসএলভি-সি৬২ মিশনটি "পিএস৩ স্তরের শেষের দিকে একটি অস্বাভাবিকতার সম্মুখীন হয়েছে"। এই প্রযুক্তিগত ত্রুটিটি মিশনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি প্রকৌশলগত গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
বিস্তারিত তদন্ত শুরু
ঠিক কী কারণে এই অস্বাভাবিকতা ঘটল বা বর্তমানে রকেটটি শেষ কোথায় পৌঁছেছে, সে সম্পর্কে ইসরো কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ বিশ্লেষণ করতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানগুলোর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা। ইসরো দ্রুত এই ঘটনার কারণ উদঘাটনে বদ্ধপরিকর। বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এই তদন্তের দিকে নজর রাখছেন।