সর্বশেষ
Loading breaking news...

নালিতাবাড়ীতে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা: প্রভাবশালীদের তোপে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম স্থগিত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে জনজীবন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি উচ্ছেদ অভিযান চরম বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে। সোমবার বিকেলে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলের তীব্র বাধার মুখে পড়েন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে একপর্যায়ে অভিযান স্থগিত রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রণক্ষেত্র উত্তর বাজার: যে কারণে পিছু হঠলেন ম্যাজিস্ট্রেট

পৌর শহরের প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ফুটপাত ও রাস্তার জায়গা দখল করে রাখা ব্যবসায়ীদের মালামাল জব্দ করতে গেলেই বিপত্তি শুরু হয়। উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন ব্যবসায়ীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আদালতের কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানান। শেষ পর্যন্ত সংঘাত এড়াতে অভিযান স্থগিত করে ফিরে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট ও তার সঙ্গীয় ফোর্স।

সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা: নেপথ্যের ঘটনা

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অভিযানের আগে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে পুরো এলাকায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সে সময় ব্যবসায়ীদের রাস্তার ওপর থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই নমনীয়তাকে তোয়াক্কা না করে দখলদারিত্ব বজায় রাখেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী। ফলে সোমবার আইন প্রয়োগ করতে গেলে তারা চড়াও হন এবং আদালতের কার্যক্রম নিয়ে কৈফিয়ত দাবি করেন।

অভিযোগ ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, আদালতের সাথে আসা স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকানে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রশাসনের প্রতি সম্মান জানালেও বহিরাগতদের হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন। তবে সরকারি কাজে বাধা এবং আদালতের ওপর চড়াও হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এই ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন