ইনকিলাব মঞ্চের আল্টিমেটাম: '২২ দিনের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন'
জাতীয় ইনকিলাব মঞ্চ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারকে ২২ দিনের কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের নেতারা এই ঘোষণা দেন। তারা বলেন, হাদি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর। তার হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশে নেতাদের হুঁশিয়ারি
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, "আমরা প্রশাসনকে পরিষ্কার বলে দিতে চাই, ২২ দিনের মধ্যে যদি হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার শুরু না হয়, তবে আমরা আর স্মারকলিপি দেব না। আমরা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে নামব।" তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের চাপে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু ছাত্র-জনতা তা হতে দেবে না।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি
বক্তারা দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, সাগর-রুনি থেকে শুরু করে তনু হত্যা—কোনোটিরই বিচার পায়নি জাতি। ওসমান হাদির ক্ষেত্রেও একই পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান। সমাবেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা ছাত্র প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
বিক্ষোভ মিছিল
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে 'হাদি হত্যার বিচার চাই', 'খুনিদের ফাঁসি চাই' স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। পুলিশ মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেনি, তবে সতর্ক অবস্থানে ছিল।
পরবর্তী কর্মসূচি
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, আল্টিমেটামের এই ২২ দিন তারা বসে থাকবে না। জনমত গঠনের জন্য তারা সারাদেশে জনসংযোগ ও পথসভা করবে। এছাড়া, আগামী সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার কর্মসূচির কথাও ভাবা হচ্ছে। তারা সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনকে এই ন্যায়বিচারের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।