সর্বশেষ
Loading breaking news...

আর্থিক অনিয়মের দায়ে ৫ ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—দেশের এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক অনিয়ম ও শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডাররা ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছিলেন এবং বিগত সময়ে কারা এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন বা অডিট রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই বিস্তারিত বিশ্লেষণ আর্থিক অসঙ্গতির মূল কারণ উদ্ঘাটনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

হিসাবের গরমিল আর আমানতকারীর নিরাপত্তা

দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত চিত্র ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন আর শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৫ আগস্টের আগে যারা এসব ব্যাংকের অডিট করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, 'যাদের টাকা জমা আছে, তারা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন।' এটি শেয়ারহোল্ডারদের থেকে ভিন্ন, যারা জেনেবুঝে বাজারদরের ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন।

ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছে সরকার। ইরান ও ভেনেজুয়েলায় চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্থানীয় উৎপাদন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য অফশোর ড্রিলিং এবং মধ্যপাড়ার হার্ড রক কয়লার সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

পে-কমিশনের কাজের অগ্রগতি

অন্যদিকে, সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত পে-স্কেল নিয়েও কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি জানান, পে-কমিশনের ২১ জন সদস্য বিষয়টি নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। বিভিন্ন মহলের মতামত ও প্রস্তাব লিখিত ও মৌখিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই কমিশন তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট বা সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সক্রিয় পদক্ষেপ আর্থিক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে। এই ব্যাংকগুলোর অডিট ও আর্থিক প্রতিবেদনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ভবিষ্যতে এমন আর্থিক অসদাচরণের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন