দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সমাবেশ
রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ২০২৬ সালের জন্য ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক এই আঞ্চলিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে এই জমকালো আয়োজনের সূচনা হয়, যা আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তর বিষয়ে আলোকপাত করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আঞ্চলিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
বৈশ্বিক পণ্ডিতদের সমাবেশ
এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের আগমন ঘটেছে। যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে যোগ দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল ছাড়াও সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং কূটনীতিকরা এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে অংশ নিচ্ছেন, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।
'হিট' প্রকল্পের উদ্যোগ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে যে, এই সম্মেলনের আয়োজনটি ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই সম্মেলন সেই নেটওয়ার্কিং জোরদার করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তিন দিনের এই আয়োজনে মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন নির্ধারিত রয়েছে। প্রথম দিনেই উচ্চশিক্ষার সুশাসন, গুণগতমান, অন্তর্ভুক্তি এবং গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়, পাশাপাশি স্থায়িত্ব ও সামাজিক সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা হয়।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের এজেন্ডায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বয়, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম নিয়ে গভীর আলোচনা স্থান পেয়েছে। একইসাথে, স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়েও মতবিনিময় করা হবে। অংশীজনদের সংলাপের মাধ্যমে সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং উপাচার্যদের সঙ্গে ‘হিট’ প্রকল্পের প্রেক্ষাপট নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ থাকছে। এই আলোচনাগুলো ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য নতুন পথ খুলে দেবে।
লিঙ্গ সমতা ও ঘোষণা
সম্মেলনের শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গ বৈষম্য বা জেন্ডার ইস্যু নিয়ে আলোকপাত করা হবে, যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দিক। সব আলোচনার সারসংক্ষেপ টেনে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এই ঘোষণা ভবিষ্যতের শিক্ষানীতির ভিত্তি স্থাপন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি আঞ্চলিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।