ইরানের দাবি: মার্কিন শিবিরে ২০০ সেনা নিহতের ঘটনা, পেন্টাগনের তীব্র অস্বীকার
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল ইরানের দাবি ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানার পর ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের কৌশলী হামলায় কমপক্ষে ২০০ আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পরস্পরবিরোধী তথ্যে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে চাপা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
তাস নিউজের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, আইআরজিসি তাদের ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’ নামক অভিযানকে সফল কৌশলগত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই হামলায় কেবল হতাহতের ঘটনাই নয়, একটি মার্কিন রণতরী বা বৃহৎ সামরিক জাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথ সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে। ইরান এই আক্রমণকে সরাসরি পূর্বে ঘটে যাওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সেন্টকমের কঠোর প্রত্যাখ্যান: তথ্যের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা
আইআরজিসির দাবির ঠিক পরেই মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকমের একজন মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে করা প্রতিটি দাবিই অসত্য। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং ২০০ মার্কিন সেনার হতাহতের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
সেন্টকম আরও নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের ছোড়া অধিকাংশ আক্রমণ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি। দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী দাবি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
একদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এটিকে নিছক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটুকু, তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন বিশ্ববাসীর নজর দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।