তেল আবিব ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তেল আবিব এবং হাইফায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি তোলা হয়েছে। রবিবার ভোরে এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞের একাধিক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরণের সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
আক্রমণের নেপথ্যে কী?
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তাদের ভূখণ্ডে হামলার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াই হলো এই পাল্টা আক্রমণ। তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোরের এই অভিযানে তেল আবিব ও হাইফার নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলার সঙ্গে সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
অনলাইনে ফাঁস হওয়া ছবি ও ভিডিওগুলোতে তেল আবিবের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলার চিত্র ফুটে উঠেছে। একইভাবে, হাইফা শহরের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেছে। এই দৃশ্যগুলো অঞ্চলে বিদ্যমান উত্তেজনাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের ওপর পরিচালিত আক্রমণের বদলা হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১৪টি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের হুঁশিয়ারি
ইরান আরও দাবি করেছে যে, শুধুমাত্র ইসরায়েল নয়, এই পাল্টা অভিযানে অধিকৃত অঞ্চলের আশেপাশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু ছিল। তাসনিমের ভাষ্যমতে, এই প্রতিশোধমূলক হামলায় আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মোট ১৪টি মার্কিন ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের আওতায় এসেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে এক গভীর সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুদ্ধের এই ডামাডোলে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা পুরো অঞ্চলকে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।