খামেনির মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ: তেহরানে দপ্তরেই শেষ নিঃশ্বাস
বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর সঠিক সময় ও স্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করল দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদ জানিয়েছে, শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই তেহরানে নিজের দপ্তরেই দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি নিহত হন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে গত কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অনুমান ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটল।
আত্মগোপনের গুজব ও দপ্তরেই চূড়ান্ত মুহূর্ত
ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের এই নিশ্চিতকরণ সংবাদটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি দ্বারা যাচাই করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খামেনির দপ্তর বা 'লিডারশিপ হাউস' প্রাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির নিজ দপ্তরে মৃত্যু প্রমাণ করে যে তিনি পালিয়ে ছিলেন না বা আত্মগোপনে ছিলেন না। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে ইরানে চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের নজর এড়িয়ে খামেনি পালাতে পারেননি। ট্রাম্প খামেনিকে 'ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি' হিসেবে অভিহিত করেন এবং আইআরজিসিকে আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি দেন।
নেতানিয়াহুর ইঙ্গিত ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও প্রায় একই সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আর ক্ষমতায় নেই। তেহরানের প্রাথমিক নীরবতা পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। অবশেষে সরকারি ঘোষণার পর বিষয়টি পরিষ্কার হলো।
খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে এবং ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে।