খামেনির অসুস্থতার গুজব নাকচ করল ইরান, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই কঠোর বার্তা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযানের আবহে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ অক্ষত এবং স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সকল গুজবকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়ার খবর
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম ও মেহের বার্তা সংস্থা জানিয়েছিল যে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে তেহরানের বাইরে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং তিনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। এই খবর আন্তর্জাতিক মহলে খামেনির অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করলেও, ইরানের সরকার দাবি করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
খামেনির প্রতিনিধি ড. আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহীও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা চমৎকার সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। শনিবার সকালে ইরানজুড়ে চালানো মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর থেকেই দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল দেখা দেয়।
তেহরানের অনড় অবস্থান
ইরান সরকার বোঝাতে চাইছে যে, শত্রুপক্ষ মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উভয়েই নিরাপদে আছেন জানিয়ে প্রশাসন জনগণকে আশ্বস্ত করেছে। তবে হামলার ব্যাপকতা এবং গোপনীয়তা রক্ষার তোড়জোড় ইঙ্গিত দেয় যে পরিস্থিতি বেশ নাজুক।
ইরানের এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে, বাইরের চাপে তাদের নেতৃত্ব কাঠামোতে কোনো ফাটল ধরেনি এবং তারা যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুত।