ইরানের মিনাবে স্কুলে ভয়াবহ গণহত্যায় ১০৮ শিশুর প্রাণহানি, জাতি শোকস্তব্ধ
দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানের মিনাব শহরে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। শনিবারের এই ঘটনাটি প্রথমে অল্প কয়েকজনের মৃত্যুর খবর দিয়ে শুরু হলেও, দ্রুত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮-এ পৌঁছায়, যা গোটা ইরানকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।
একদিনে জোড়া হামলা ও রাষ্ট্রীয় শোক
এই পৈশাচিক ঘটনার পর মিনাবের গভর্নর রবিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবি স্কুল ভবনের ভেতরে সারি সারি মরদেহের ব্যাগের যে ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তা বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। একই দিনে দক্ষিণাঞ্চলীয় লামের্দ প্রদেশেও একটি জিমনাসিয়ামে হামলা চালানো হয়, যেখানে ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। সেখানেও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থা এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলার নেপথ্যে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। যদিও অভিযুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবুও এই অভিযোগ ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। মিনাব ও লামের্দের এই রক্তক্ষয়ী দিন ইরানের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
স্কুল ও ক্রীড়া কেন্দ্রের মতো কোমলমতি শিশুদের স্থানে এমন হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতাকে ইঙ্গিত করে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। সরকার অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলেও, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
ইরানজুড়ে এখন শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই শিশু হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে।