ইরানে 'জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার' অভিযোগে ৩০ বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার
ইরানের তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) ইরানের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা 'জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত' এবং 'রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন' করার চেষ্টা করছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের লক্ষ্যেই এই ধরপাকড় চালানো হয়েছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত
গত কয়েক দিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধের প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ চলছে। তেহরানের আজাদী স্কয়ারে গত রাতে জড়ো হওয়া জনতার ওপর পুলিশ চড়াও হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিপেটা করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অনেককে মারধর করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
সরকারের কঠোর অবস্থান
ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, "দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। যারা বিদেশি শক্তির ইন্ধনে রাস্তায় নামবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।" তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীসহ প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, বলপ্রয়োগ করে জনগণের ন্যায্য দাবি দাবিয়ে রাখা যাবে না। তবে ইরান সরকার এসব সমালোচনাকে 'অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক অসন্তোষের কারণে ইরানে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তবুও জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত না হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। আগামী দিনগুলোতে সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।