সর্বশেষ
Loading breaking news...

মৃত্যুপুরী ইরান: শত শত লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ইসরায়েল ও আমেরিকাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের রাজপথ যেন এখন এক মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে লাশের সারি। মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহেই আটক করা হয়েছে ১০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে। নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

রাজপথে রক্তের স্রোত, আকাশে ড্রোন

গোটা ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকায় ভেতরের আসল চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রোববারও রাজধানী তেহরান এবং মাশহাদে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে বিক্ষোভকারীরা এখন ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে খুব অল্প সময়ের জন্য রাস্তায় নামছেন। কিছু এলাকায় নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা আন্দোলনকারীদের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ না করায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।

যে স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল

গত ২৮ ডিসেম্বর এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি থেকে। ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতন ঘটে, যেখানে এক ডলারের বিপরীতে মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়াল, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন অল্প দিনেই রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে তা বর্তমান সরকার ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত হয়।

হুঁশিয়ারি না যুদ্ধের দামামা?

অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যখন অগ্নিগর্ভ, তখন আন্তর্জাতিক মহলকেও কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর কোনো রকম হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত সদস্যরা সমস্বরে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ বলে স্লোগান দেন, যা উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালেও হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তথ্য ব্ল্যাকআউটের সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর দমন-পীড়ন চালাতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। শত শত লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ইরান সরকার যে অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন