সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরানে বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত বেড়ে ১১৮, যুক্তরাষ্ট্রের নীরব তদন্ত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে অবস্থিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই মর্মান্তিক খবর নিশ্চিত করেছে। শনিবার সংঘটিত এই আকস্মিক ও মারাত্মক আঘাতে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এক গভীর শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

লক্ষ্যবস্তু কেন শৈশবের আশ্রয়?

সিএনএন-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ মিনাবের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার নাম 'শাজাবা তাইয়্যেবা' স্কুল, তা ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত ছিল। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, স্কুলটি একসময় সামরিক স্থাপনার অংশ হলেও ২০১৬ সাল থেকে এটিকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছিল। এই ভৌগোলিক নৈকট্য হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে স্কুলের অভ্যন্তরে কী পরিমাণ ধ্বংসলীলা চলেছে, তার ভয়াবহতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। জানা গেছে, হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটে যখন শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পাঠগ্রহণ করছিল, যা হতাহতের সংখ্যা এত ভয়াবহ হওয়ার মূল কারণ।

সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত ও তদন্ত

এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত থাকার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইরান সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তেহরান এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি ও নজিরবিহীন আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর চরম জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। মিনাবের এই হামলা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং মানবিক বিপর্যয়ের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন