প্রতিবেশীকে আর আক্রমণ নয়: যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত ইরানের, ট্রাম্পের ঘোষণায় সংশয়
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা দিল ইরান। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে প্রথম আক্রমণ না চালায়, তবে তেহরান আর কারও উপর আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। শুক্রবার ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এই নীতিগত অবস্থানে অনুমোদন দিয়েছে বলে রয়টার্সের খবরে জানা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে আঘাত হানার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার মন্তব্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি নরম সুর লক্ষ্য করা গেছে। তবে, এই পদক্ষেপের মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানার দাবি করায় পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হতে শুরু করেছে।
ভিতরের আঘাত ও প্রতিবেশীর কাছে ইরানের আর্তি
প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে হচ্ছে বলে আমরা লজ্জিত ও দুঃখিত।” তবে তিনি এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে দায়ী করেন, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। বাঘেই জোর দিয়ে বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।”
ইসরায়েলের সর্বাত্মক পাল্টা আঘাত
ইরান যখন কূটনৈতিক সমাধানের বার্তা দিচ্ছে, ঠিক তখনই ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের অভ্যন্তরে আরও একটি সমন্বিত সামরিক অভিযানের দাবি করেছে। আইডিএফের তথ্যমতে, এই অভিযানে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর আশিটিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। ইসরায়েলের দাবি, এই হামলায় আইআরজিসি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কেন্দ্র সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আঘাত করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও ট্রাম্পের অবস্থান
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে তেহরানের কাছ থেকে কেবল ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ মেনে নেবেন। ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের ফলে কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষীণ আশাটুকুও আবারও মিলিয়ে যেতে বসেছে।