সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরানে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যের পর রাশিয়ার চরম হুঁশিয়ারি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন আর কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ সীমার মধ্যে আবদ্ধ নেই; বরং এটি পরাশক্তিগুলোর এক ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক দাবার চালে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সহায়তা আসছে’ মন্তব্যের পরই রাশিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি আসে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এখন আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে।


ট্রাম্পের আগ্রাসী বার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভ দমনে জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এমনকি সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাঁর ‘সহায়তা আসছে’ মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।


মস্কোর কঠোর প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাবের কড়া জবাব দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন করে যেকোনো সামরিক হামলার হুমকি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। তারা এই পদক্ষেপকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব নিরাপত্তার জন্যও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসের হামলার পুনরাবৃত্তি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।


বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক উদ্বেগ

২০২৪ সালে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীনও ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের মতে, বাণিজ্যযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কেউই লাভবান হয় না, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এদিকে, আন্তর্জাতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয় বা হামলা চালায়, তবে ইরান তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।


ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট

বর্তমানে ইরান অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এসবের জেরে দেশটির ৩১টি প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১৬ হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মিলে ইরানের পরিস্থিতি এখন এক চরম অগ্নিগর্ভ রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন