ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়াতে এক নতুন এবং চরম পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে কোনো দেশ যদি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন বজায় রাখে, তবে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যে "২৫ শতাংশ শুল্ক" দিতে হবে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন এবং নিশ্চিত করেন যে এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক আক্রমণকে তেহরানকে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া
ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক আক্রমণের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানকে "পরীক্ষা" করার চেষ্টা করে, তবে দেশটি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই আরাগচি এই কড়া মন্তব্যটি করেন। ইরান তার সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনীতির ওপর যেকোনো আঘাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সামরিক প্রস্তুতির দাবি
সোমবার আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি নিশ্চিত করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে, তবে সামরিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন। তাঁর দাবি, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আধুনিক। ইরান এখন যেকোনো আগ্রাসন রুখতে সক্ষম বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের হুমকির পর দেশটির সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তেহরান চায় সামরিক শক্তির জানান দিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রাখতে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সরকার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় ইরান এখন কিছুটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (NIAC) প্রধান জামাল আবদি জানান, সরকার রাস্তায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিলেও তেহরান হয়তো এবার সহজে বড় কোনো ছাড় দিতে রাজি হবে না। সরকার মনে করছে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা তাদের আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা প্রদান করবে। তবে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট মেটানো এখনো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
পারমাণবিক সংকটের শঙ্কা
অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ইরানের অর্থনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি এবং বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় শোকানুষ্ঠান থেকে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। আবদি সতর্ক করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি। এর পাশাপাশি ইসরায়েল ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে আগ্রহী বলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে কোনো সামরিক হামলা হলে এসব কৌশলগত স্থাপনাই হবে প্রধান লক্ষ্যবস্তু। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন হুমকি ও আলোচনার এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।