তেহরান হুঁশিয়ারি দিল, আমেরিকা পরীক্ষা করতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান
বিশ্বজুড়ে যখন পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি সতর্ক করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানকে 'পরীক্ষা' করার চেষ্টা করে, তবে দেশটি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই আরাগচি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা থাকলেও ইরান যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর।
সামরিক বিকল্প নিয়ে ভাবনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের চলমান বিক্ষোভ দমনে "কঠোর বিকল্প" বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে। এর জবাবে আরাগচি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে সামরিক পথ বেছে নিলেও এবারও যদি তাই করে, তবে ইরান তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও দাবি করেন, গত বছর ঘটে যাওয়া ১২ দিনের সংঘাতের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি বহুগুণ বেশি। তেহরান আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের 'বুদ্ধিমানের পথ' বেছে নেবে।
ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, কিছু পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। তিনি দাবি করেন, চলমান এই বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে "সন্ত্রাসী গোষ্ঠী" ভেতরে প্রবেশ করেছে এবং তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ বিক্ষোভকারী উভয়ের ওপরই হামলা চালাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে এই অস্থিরতার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে ইরানে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও, পরে তা তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর দাবিতে পরিণত হয়েছে।
হতাহতের সংখ্যা বিতর্ক
এদিকে, চলমান এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে তেহরান ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চরম মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ দাবি করছে নিহতের সংখ্যা ৭০০-এরও বেশি। এই তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংলাপের ভবিষ্যৎ
ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বৈঠকের আগেই ব্যবস্থা নিতে হতে পারে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে পরমাণু চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা আলোচনা প্রভাবিত হতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক সংঘাতের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।