সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি কুর্দি বিদ্রোহীদের, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার দাবি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

খাবাত অর্গানাইজেশন অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তানের মহাসচিব বাবাশেখ হোসেইনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি যোদ্ধারা এবার ইরানের অভ্যন্তরে বড় আকারের স্থল অভিযান পরিচালনার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। যদিও হোসেইনি নিশ্চিত করেননি যে অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, পরিস্থিতি এখন অপারেশনের জন্য অনুকূল হওয়ায় পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।

আক্রমণের প্রস্তুতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

আল-জাজিরার প্রতিবেদক যখন সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন যে তাদের যোদ্ধারা কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছেন কিনা, জবাবে বাবাশেখ হোসেইনি জানান, “এই মুহূর্তে না। আমরা এখন কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়িত নই।” তবে এর পরই তিনি যোগ করেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে আসছি এবং এখন পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হওয়ায় পদক্ষেপ নেওয়ার শক্ত সম্ভাবনা রয়েছে।” হোসেইনি স্পষ্ট করেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর হয়নি, তবে প্রস্তুতির ধরন তেমনই।

এই সম্ভাব্য অভিযানের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বড় তথ্য ফাঁস করেছেন কুর্দি নেতা। বাবাশেখ হোসেইনি নিশ্চিত করেছেন যে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, যদিও এখনো কোনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এই যোগাযোগ মূলত ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে করণীয় এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনার ওপর আবর্তিত। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও এই বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

আধুনিক সমরাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা

বাবাশেখ হোসেইনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের বড় ধরনের অভিযানের জন্য অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম অপরিহার্য। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের কাছে যে সরঞ্জাম আছে তা বেশ সাধারণ ও পুরোনো। আজকের যুদ্ধ আগের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক, তাই এমন কিছু হলে আমরা পশ্চিমাদের কাছে এসব সহায়তা চাইব।” এই বক্তব্য প্রকারান্তরে ইঙ্গিত দেয় যে কুর্দি প্রতিরোধ যোদ্ধারা বড় আকারের সাহায্যের অপেক্ষায় আছে।

পরিশেষে, ইরানের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের জন্য কুর্দি প্রতিরোধ যোদ্ধারা পশ্চিমাদের কাছ থেকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা প্রত্যাশা করছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ার শঙ্কা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন