সর্বশেষ
Loading breaking news...

উত্তাল পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে ট্রাম্পকে ফোন করলেন ইরানি নেতারা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় আসার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সরকার আলোচনার টেবিলে বসার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ বৈঠকের প্রস্তুতিও এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেহরানের এই আকস্মিক যোগাযোগ কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হুমকির মুখে কূটনৈতিক তৎপরতা

গত রোববার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর তেহরানের নেতারা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, "ইরানি নেতারা ফোন করেছেন এবং তারা আলোচনা করতে চান। মূলত একটি বৈঠকের আয়োজনের উদ্দেশ্যেই এই যোগাযোগ শুরু হয়েছে।" এর আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, ইরানে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘শক্তিশালী বিকল্প’ ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখেই সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছে ইরান। তেহরান প্রশাসন বুঝতে পেরেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়া বা আলোচনার পথ বন্ধ করে রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মঘাতী হতে পারে। তাই তারা প্রথাগত বৈরিতা সরিয়ে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে। যদিও এই বৈঠকের দিনক্ষণ বা স্থান নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

জনরোষের আগুনে টালমাটাল তেহরান

ইরান বর্তমানে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং জটিল রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই বিক্ষোভ কেবল অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল সরকারবিরোধী গণবিস্ফোরণে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে মাশহাদ ও ইসফাহানের মতো অন্তত ১০০টি প্রধান শহর এখন উত্তাল।

রাজপথগুলো হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীদের লড়াইয়ের রণক্ষেত্র, যা তেহরান প্রশাসনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এই রোষ প্রশমনে ব্যর্থ হয়েই সরকার এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে এই ফোনালাপ এবং সম্ভাব্য বৈঠক ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন