দুবাইয়ের বিলাসবহুল হোটেলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের ডামাডোল
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা এখন চরমে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের যৌথ হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর আসছে। শনিবার দুবাইয়ের বিশ্ববিখ্যাত পাম জুমেইরাহ অঞ্চলের ফাইভ-স্টার ফেয়ারমন্ট হোটেলে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মুহূর্তের মধ্যে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোটেলের প্রবেশদ্বারে মুহূর্তে আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে চারজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দুবাইয়ের সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বহু মানুষ আটকে পড়েছেন, এবং শহরের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য এখন এক পরিচিত বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অগ্নিগর্ভ উপসাগরীয় সীমান্ত: হামলা শুধু দুবাইয়ে সীমাবদ্ধ নয়
সংঘাতের এই ভয়াবহ বিস্তার কেবল দুবাইতেই থেমে থাকেনি। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের বিধ্বংসী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাহরাইনে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানলে একটি বহুতল ভবনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। এর আগে ওই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং একটি মার্কিন নৌঘাঁটিতেও সফল হামলার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দরে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ায় বেশ কয়েকজন বিমানবন্দর কর্মী আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এই সমস্ত হামলা হলো যুক্তরাষ্ট্রের চালানো কথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর জবাবে ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্মিলিত পাল্টা জবাব।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ইরাকের ঘটনাপ্রবাহে। সেখানে ইরান-পন্থি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ঘাঁটিতে মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলায় কাতায়েব হিজবুল্লাহর অন্তত দুজন সদস্য নিহত হন। এর প্রত্যুত্তরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সমগ্র অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সর্বাত্মক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে।