খামেনি হত্যার প্রতিশোধ: আইআরজিসি ঘোষণা করল ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী’ অপারেশনের, লক্ষ্যবস্তু ইসরায়েল ও আমেরিকা
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক মৃত্যুতে দেশটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই শোকের আবহে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিল ইরানের প্রভাবশালী সামরিক সংগঠন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা ঘোষণা করেছে, খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ‘ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করা হবে।
আইআরজিসি কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ শুরু হতে চলেছে। তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলো মধ্যপ্রাচ্যের ‘দখলকৃত এলাকা এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো।’ এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
৩৭ বছরের শাসকের বিদায় ও শোকের ৪০ দিন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার ভোরের দিকে তিনি ‘তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে’ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রয়াণে ইরানে তাৎক্ষণিকভাবে চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এই শোকের মধ্যেই খামেনির ঘনিষ্ঠজনদের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে, যেখানে তাঁর মেয়ে, জামাতা এবং নাতি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন খামেনি, তাঁর প্রয়াণ তাই ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু কোনোভাবেই বিনা প্ররোচনায় ছেড়ে দেওয়া হবে না। তারা এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপকে ইরানের বিপ্লবের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এই বিধ্বংসী অভিযানের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সম্পূর্ণভাবে নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সরাসরি হুমকির মুখে পড়তে চলেছে। সামরিক পদক্ষেপের সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।