ইরানের সামরিক বাহিনীকে জনগণের রক্ষক হওয়ার আহ্বান জানালেন রেজা পাহলভি
ইরানের নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশটির সামরিক বাহিনীকে শাসনের সেবক নয়, বরং জনগণের রক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রমবর্ধমান সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের মুখে তিনি সেনাবাহিনীকে জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানি নাগরিকদের 'আমার স্বদেশবাসী' বলে সম্বোধন করেন এবং বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
সামরিক বাহিনীর প্রতি
পাহলভি সরাসরি ইরানের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, তাদের উচিত ধর্মভিত্তিক শাসনের সেবক না হয়ে দেশের জনগণের রক্ষক হিসেবে কাজ করা। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের হাতে সময় খুব সীমিত এবং অবিলম্বে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ভ্রান্ত ধারণা রোধ
নির্বাসিত যুবরাজ বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেন, যাতে কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক মহলে বিক্ষোভ থেমে গেছে বা দেশে স্বাভাবিক জীবন ফিরে এসেছে—এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে না পারে। তিনি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
রাজতন্ত্রের উত্তরাধিকার
রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর তিনি সিংহাসনে বসার সুযোগ হারান এবং তখন থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
সরকারের পাল্টা কৌশল
এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বড় পরিসরে রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই সহিংসতার জন্য 'বিদেশি শক্তি'কে দায়ী করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, গত দুই সপ্তাহে শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।