আজান চলাকালীন সেহরি খাওয়া কি জায়েজ? রোজার শুদ্ধতা নিয়ে ইসলামের বিধান
রমজান মাসের পবিত্র ইবাদত রোজা পালনের ক্ষেত্রে সেহরি গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ। এটি কেবল শারীরিক শক্তির উৎসই নয়, বরং এর মধ্যে নিহিত রয়েছে মহান আল্লাহর বিশেষ বরকত। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ এতে বরকত রয়েছে।’ এমনকি সামান্য এক ঢোক পানি পানের মাধ্যমেও এই সুন্নাহ আদায় করা সম্ভব। তবে সেহরির সময়সীমা নিয়ে সাধারণ মুসুল্লিদের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়—আজান শুরু হওয়ার পর কি খাবার খাওয়া বৈধ?
আজান নাকি ঘড়ির কাঁটা: সময় নির্ধারণের নেপথ্য রহস্য
অনেকেই মনে করেন আজান দেওয়া পর্যন্ত সেহরি খাওয়ার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু ইসলামি আইনজ্ঞ ও মুফতিদের মতে এই ধারণাটি সঠিক নয়। রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, সেহরির সময় শেষ হওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড আজান নয়, বরং ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত ‘সুবহে সাদিক’ বা শেষ সময়। সাধারণত সুবহে সাদিক হওয়ার পরেই মসজিদে আজান দেওয়া হয়। ফলে কেউ যদি আজান শোনা পর্যন্ত পানাহার চালিয়ে যান, তবে তার রোজা না হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
অনেক সময় দেখা যায়, মসজিদের মাইকে সেহরি বন্ধের ঘোষণা বা সাইরেন বাজানোর সময়ও অনেকে তড়িঘড়ি করে চা পান করেন কিংবা পান চিবোতে থাকেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। যদি সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর কেউ পানাহার করেন, তবে তার রোজা শুদ্ধ হবে না। আমাদের দেশের ক্যালেন্ডারগুলোতে সাধারণত সতর্কতামূলকভাবে আজান ও সেহরির শেষ সময়ের মধ্যে কয়েক মিনিটের একটি ব্যবধান রাখা হয়। এই সংশয়যুক্ত সময়ে খাবার গ্রহণ করা মাকরুহ হলেও রোজা হয়ে যায়, তবে সুবহে সাদিক নিশ্চিত হয়ে গেলে রোজা কোনোভাবেই বৈধ হবে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সেহরিকে বিলম্ব করে শেষ সময়ে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। সাহাবায়ে কেরামও দ্রুত ইফতার করতেন এবং শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। সেহরি শুরু করার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ দোয়া কোরআন বা হাদিসে বর্ণিত হয়নি, তবে যেকোনো খাবার গ্রহণের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ পাঠ করা উত্তম। মনে রাখা জরুরি যে, পেট ভরে খাওয়া সেহরির উদ্দেশ্য নয়; বরং ইবাদতের শক্তি সঞ্চয় এবং আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করাই হলো এই পবিত্র আমলের মূল লক্ষ্য।
তাই সময় সচেতন থেকে সুন্নাহ মোতাবেক সেহরি সম্পাদন করাই মুমিনের পরিচয়। আজানের অপেক্ষায় না থেকে ক্যালেন্ডারের সময় মেনে সেহরি শেষ করা রোজার নিরাপত্তার জন্য জরুরি।