নাগরিক সেবায় নতুন মিশন ইশরাকের, ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ
ঢাকার নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে এবং জনজীবনকে স্বস্তিদায়ক করতে এক যুগান্তকারী ও সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। শনিবার রাজধানীর নগরভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালামের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই নতুন কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে মূলত আসন্ন ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা, খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাটের দ্রুত সংস্কার এবং বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর চিরচেনা জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
ভোটের হিসাব-নিকাশে বিস্ফোরক তথ্য
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমের আগেই মশক নিধন অভিযান ব্যাপক হারে পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন কার্যকর সরকার না থাকায় নগরের সেবা কাঠামোটি অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে যাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসকরা মিলে দ্রুত নাগরিক সেবাগুলো সচল করেন। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই তিনি ঢাকার নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তার বক্তব্যকে ব্যক্তিগত অভিপ্রায় উল্লেখ করে তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, দল মনোনয়ন দিলে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত হলেই তিনি পুনরায় লড়াইয়ে নামবেন।
বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও ভোটার তালিকা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তার আসনে অতীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যেখানে মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেত, সেখানে এবারের প্রাপ্ত ভোট কল্পনাতীত। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটার তালিকায় কোনো অনিয়ম বা ডুপ্লিকেশন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে তালিকা সংশোধনের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ইশরাকের এই নতুন উদ্যোগ ঢাকাবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে তার অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।