সর্বশেষ
Loading breaking news...

মাদকের বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর অবস্থান ও ঐতিহাসিক পটভূমি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মাদকদ্রব্য যা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়, তার বিরুদ্ধে ইসলাম যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে তা অনন্য। ইসলাম কেবল ক্ষতিকর বস্তুকে বর্জনই করেনি, বরং মানুষকে তা ত্যাগের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুত করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শিক্ষা মাদক নির্মূলে এক মাইলফলক।

আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার সুচিন্তিত কৌশল

ইসলামী নীতি অনুযায়ী, যা কিছু মানব সত্তার জন্য ক্ষতিকর তা হারাম করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে সূরা আরাফে বলা হয়েছে যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) উৎকৃষ্ট বস্তু হালাল করবেন ও নিকৃষ্ট বস্তু হারাম করবেন। মাদকের বিরুদ্ধে এই নির্মূল প্রক্রিয়া কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল এক সুদূরপ্রসারী ও ধারাবাহিক পরিকল্পনা।

কুরআনে ধাপে ধাপে মাদক বর্জন

মাদক নিষিদ্ধকরণের প্রক্রিয়াটি কোরআনে সুনিপুণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম ধাপে ফলের উপকারিতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে সূরা বাকারার মাধ্যমে জানানো হয় যে, মদের মধ্যে মহাপাপ রয়েছে। তৃতীয় ধাপে নামাজের সময় নেশাগ্রস্ত থাকতে নিষেধ করা হয় এবং পরিশেষে সূরা মায়িদার মাধ্যমে মদকে চিরতরে হারাম করা হয়।

সাহাবিদের অভূতপূর্ব আনুগত্য

হযরত আয়েশা (রাঃ) এর মতে, যদি প্রথম নির্দেশনাতেই মদ নিষিদ্ধ করা হতো, তবে মানুষ তা মানত না। চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা জারির পর সাহাবিদের আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মদিনার ঘরে ঘরে থাকা সমস্ত মদ রাস্তায় ঢেলে দেওয়া হয়েছিল, যা এক ঐতিহাসিক দৃশ্য ছিল।

এই ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করে, ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কীভাবে একটি গভীর আসক্ত সমাজকে আমূল বদলে দিতে পারে। শরিয়তের নির্দেশনা মান্য করার ক্ষেত্রে সাহাবিদের এই বিশ্বস্ততা আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুপ্রেরণা। নেশামুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামের এই পদ্ধতিটি আজও সারা বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় মডেল হতে পারে।

আরও পড়ুন