তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা; ইরানে জরুরি সতর্কতা জারি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করে অবশেষে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার ভোররাতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একাধিক যুদ্ধবিমান ইরানের অভ্যন্তরে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের আশেপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ইসরায়েলে জাতীয় সতর্কতা জারি
হামলার পরপরই ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের দেশের নাগরিকদের জন্য জরুরি জাতীয় সতর্কতা জারি করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উচ্চ ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
তেহরানের পাশাপাশি ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলাটি পূর্ববর্তী ইরানি আক্রমণের একটি সুচিন্তিত জবাব। অন্যদিকে, ইরানজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং অনেক এলাকায় সাইরেনের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে।
জেরুজালেম পোস্ট এবং ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, হোয়াইট হাউসকে এই অপারেশন সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত করা হয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের প্রক্সি যুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতে রূপান্তর করার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেক দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তারা দ্বিধা করবে না। আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।