যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলা
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ব্লাত এবং ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় একাধিকবার এই আগ্রাসী অভিযান চালানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের নতুন এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। ইসরায়েলি সামরিক বিমানের অবিরাম উড্ডয়ন পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের এই হামলা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মাঠের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বেসামরিক নাগরিক ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রায়শই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ হামলা বন ও পাহাড়ের মধ্যবর্তী খোলা জায়গায় চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি লেবাননের আল-মায়েদিন চ্যানেলও নিশ্চিত করেছে যে, ইকলিম আল-তুফাহর উচ্চভূমি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে।
এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যারা যুদ্ধবিরতির পর বাড়ি ফিরতে শুরু করেছিলেন, তারা আবারও আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেও ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে নিয়মিত টহল দিচ্ছে, যা সার্বভৌমত্বের চরম অবমাননা।
মানবিক বিপর্যয়ের চরম চিত্র
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৭ জনই বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘের দেওয়া এই পরিসংখ্যান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইসরায়েল লেবাননে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে লেবাননে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যুদ্ধের কারণে খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলো আহতদের ভিড়ে পরিপূর্ণ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানালেও চলমান বোমাবর্ষণের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই মানবিক সংকট সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।