বছরের শুরুতেই মহাকাশ মিশনে বড় বিপর্যয়, কক্ষপথ হারাল ইসরোর ১৬টি উপগ্রহ
২০২৬ সালের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সোমবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপিত পিএসএলভি-সি৬২ রকেটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী অত্যাধুনিক ইওএস-এন১ সহ মোট ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহ মহাকাশের অতল গহ্বর হারিয়ে গেল।
তৃতীয় ধাপের বিভীষিকা
সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ৪৪.৪ মিটার দীর্ঘ এই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল অত্যন্ত ধুমধামের সাথে। প্রাথমিক দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলেও, তৃতীয় ধাপে এসেই ঘটে বিপত্তি। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানান, তৃতীয় ধাপের কার্যকারিতা শেষ হওয়ার মুহূর্তে "তীব্র কম্পন বা 'ডিস্টার্বেন্স' সৃষ্টি হয়", যার ফলে রকেটটি তার নির্ধারিত গতিপথ থেকে ছিটকে পড়ে।
এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ১,৬৯৬ কেজি ওজনের ইওএস-এন১ উপগ্রহটিকে কক্ষপথে স্থাপন করা। কিন্তু বিধিবাম, এই মূল উপগ্রহের সঙ্গে ভারতের ডিআরডিও-র অত্যন্ত গোপনীয় নজরদারি স্যাটেলাইট ‘অন্বেষা’ও ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়াও নেপাল, ব্রাজিল, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর একাধিক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট এই ব্যর্থতার শিকার হলো।
ধারাবাহিক ব্যর্থতায় উদ্বেগ
ইসরোর চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন এই ঘটনাকে 'দুর্ভাগ্যজনক' আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ইসরোর জন্য একটি অশনি সংকেত, কারণ গত বছরেও ঠিক একই তৃতীয় ধাপের যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পিএসএলভি-র আরেকটি মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। বারবার একই জায়গায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মহাকাশ গবেষণায় ভারতের এই ধারাবাহিকতা রক্ষার লড়াইয়ে এটি একটি বড় বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই ১৬টি উপগ্রহের পতন ইসরোর ভবিষ্যৎ বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিজ্ঞানীরা এখন ধ্বংসাবশেষের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।