সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইতিকাফ: আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য উপায়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইসলাম মানুষকে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের পথ দেখায় এবং এর জন্য বিভিন্ন ইবাদতের বিধান দিয়েছে। ইতিকাফ তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পার্থিব জীবনের কর্মব্যস্ততা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করেন। রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া হিসেবে বিবেচিত।

‘ইতিকাফ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো—আবদ্ধ থাকা, এক স্থানে স্থির হওয়া বা নিজেকে নিবিষ্ট করা। শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট নিয়ত সহকারে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা, আত্মশুদ্ধি অর্জন করা এবং যাবতীয় গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচানো। ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আখিরাতমুখী জীবন গড়ার প্রশিক্ষণ লাভ করে।

হাদিসের আলোকে ইতিকাফের গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। হাদিসে এসেছে, ‘নবী করিম (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দেন।’ অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতিকাফ করে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে তিন খন্দকের দূরত্ব সৃষ্টি করেন।’ এই হাদিস ইতিকাফের পরকালীন পুরস্কারের প্রতি ইঙ্গিত করে।

ইতিকাফের সময় অনর্থক কথা, ঝগড়া-বিবাদ এবং দুনিয়াবি আলোচনা থেকে বিরত থাকতে হয়। এই সময়ে ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নীরবতা অবলম্বন করা এবং অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াও ইতিকাফের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিকাফ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, বরং এর সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে।

ইতিকাফের আদব ও উপকারিতা

ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পায়। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য এটি সর্বোত্তম মাধ্যম। এটি সমাজে তাকওয়াবান মানুষ তৈরি করে, যারা পরবর্তীতে পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা ও দ্বীনি মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়। তাই এই মহান ইবাদতকে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উচিত।

আরও পড়ুন