সর্বশেষ
Loading breaking news...

‘অন্ধ বিরোধিতার দিন শেষ’, সরকারের মন্দ কাজে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

রাজনীতির চিরাচরিত ধারায় আমূল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, বরং গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চায় তাঁর দল। সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেন।

অন্ধ বিরোধিতার বিপরীতে নতুন পথের সন্ধান

বিগত দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো অনুগত বিরোধী দল হতে চাই না, আবার অন্ধের মতো বিরোধিতাও আমাদের লক্ষ্য নয়।’ তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকারের যেকোনো ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজে জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দেবে। তবে জনগণের স্বার্থপরিপন্থী বা মন্দ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে। তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের মতো নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের সংস্কৃতিতে না ফিরে তাঁর দল বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছে, যাতে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সকল রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার মানসিকতা তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জাতি এখন সংঘাত নয়, সমাধান চায়। একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সেই প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর।

সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক উন্নয়ন

দেশকে বদলে দেওয়ার জন্য সরকারি দলের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, যদি সমাজ থেকে অপরাধ এবং চাঁদাবাজি নির্মূল করা সম্ভব হয়, তবে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। তবে এর জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য বলে তিনি সতর্ক করে দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে তার কঠিন মাশুল পুরো জাতিকেই দিতে হবে।’

ইফতারের গুরুত্ব ও পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মাস মানবজাতির জন্য সঠিক পথ নির্দেশনার সময়। একইসঙ্গে তিনি দেশের বিপুল জনশক্তিকে বোঝা হিসেবে না দেখে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীকে গড়ে তুলতে পারলে দেশের সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। এই মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা, পেশাজীবী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন