দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিদ্রোহী জামায়াত নেতা বহিষ্কার
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী জামায়াত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃত নেতা অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির। দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দলের সিদ্ধান্ত ও সতর্কতা
জামায়াতে ইসলামী এবার কৌশলগত কারণে এই আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং সমমনা জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু জসিম উদ্দিন দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দেন। তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কাউকে দলে রাখা হবে না।"
জসিম উদ্দিনের প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কারের খবরে জসিম উদ্দিন তেমন বিচলিত নন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি জনগণের প্রার্থী। দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি, কিন্তু ফুলবাড়িয়ার মানুষ আমাকে চায়। আমি বহিষ্কারাদেশকে আশীর্বাদ হিসেবে নিচ্ছি। এখন আমি আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব।" তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে তৃণমূলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার রয়েছেন।
মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব
এই বহিষ্কারের ফলে ফুলবাড়িয়ার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। জামায়াতের ভোট ব্যাংক দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি অংশ দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থাকলেও, জসিম উদ্দিনের ব্যক্তিগত অনুসারীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন। এতে করে জোটের প্রার্থীর বিজয় কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি
হঠাৎ করে নেতা বহিষ্কৃত হওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তারা কার পক্ষে কাজ করবেন তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুত ফুলবাড়িয়া সফর করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে। তারা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।