'দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে মাহফিল শোনার দরকার নেই', জামায়াত নেতার মন্তব্যে তোলপাড় সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ধর্মীয় মাহফিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের একটি বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে। ধর্মীয় মঞ্চ ব্যবহার করে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ভোট চাওয়ার এই ধরণ এবং মাহফিল শোনা নিয়ে তার শর্ত আরোপের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে যে বিস্ফোরক বার্তা
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শাহজাদপুরের কায়েমপুর ইউনিয়নে একটি মাদরাসার উন্নয়নকল্পে আয়োজিত মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন জামায়াত নেতা মিজানুর। সেখানে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না, তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নাই।" তিনি আরও যোগ করেন, কোরআন ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সবাইকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এমন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টাকে অনেকেই ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যায়িত করছেন।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ধর্মীয় সমাবেশকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি সচেতন মহল সহজভাবে নেয়নি। বিশেষ করে, একটি নিরপেক্ষ ধর্মীয় জমায়েতে ভোটের শর্ত জুড়ে দেওয়ায় সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন অসংলগ্ন মন্তব্য ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাফাই ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বিতর্কের মুখে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. মিজানুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয় বরং প্রায় দুই মাস আগের। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি মূলত সবাইকে কোরআনের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামছে না, বরং তা নতুন করে ডালপালা মেলছে এবং সমালোচকরা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ।
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছে স্থানীয় বিএনপিও। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, "জামায়াতে ইসলামী বরাবরই ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।" তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত আলেম সমাজ জামায়াতের এই ‘মওদুদীবাদী’ আচরণের কারণেই তাদের পছন্দ করেন না। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে শরিক দলের নেতার এমন বেফাঁস মন্তব্য স্থানীয় জোট রাজনীতিতেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।