দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে রংপুরে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে যাচাই-বাছাই চলাকালীন তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর আইনজীবী অভিযোগ করেন, জামায়াতের ওই প্রার্থীর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে, যা তিনি হলফনামায় গোপন করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
আইনি জটিলতায় প্রার্থী
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্বধারী কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না, যদি না তিনি নির্বাচনের আগে সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত প্রার্থীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। ব্যর্থ হলে তার মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
জামায়াতের দাবি
জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা এই অভিযোগকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, প্রার্থী অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সমর্পণ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি শুধুই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা বলছেন, "আমাদের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা দেখে ভীত হয়ে প্রতিপক্ষরা মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। আমরা আগামীকালই সব নথিপত্র জমা দিয়ে প্রমাণ করব যে তিনি যোগ্য।"
এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, প্রার্থীরা যদি তথ্য গোপন করেন, তবে তা দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনী সমীকরণ
রংপুর-১ আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও এবার জামায়াতের প্রার্থী শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন। যদি শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়ন বাতিল হয়, তবে নির্বাচনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি বা জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। সবাই এখন আগামীকালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।