সর্বশেষ
Loading breaking news...

বাবুগঞ্জ থানায় সালিশ করতে গিয়ে পুরোনো মামলায় আটক হলেন জাতীয় পার্টির নেতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
বরিশালের বাবুগঞ্জ থানায় এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে থানায় সালিশ করতে গিয়ে উল্টো নিজেই আটকা পড়লেন এক জনপ্রতিনিধি। পুলিশের হাতে আটক হওয়া ওই ব্যক্তি স্থানীয় জাতীয় পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি ভেবেছিলেন বিচার করবেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নিজেই এখন পুলিশি হেফাজতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।পরিচয় ও আটকের প্রেক্ষাপটআটককৃত নেতার নাম আব্দুস সালাম, যিনি বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। একইসঙ্গে তিনি কেদারপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজের এলাকার একটি বিবাদমান বিষয় সুরাহা করতেই তিনি থানায় সালিশি বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠকের মাঝেই পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে এবং পুলিশ তাকে সেখান থেকে আটক করে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুবাদে তার এই আটক সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।বিস্ফোরক মামলার পুরনো সমীকরণএই আটকের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পুরনো মামলার জটিল সমীকরণ। অনুসন্ধান ও পুলিশি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, গত বছর বাবুগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হেমায়েত বাদী হয়ে ওই মামলাটি করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইউপি সদস্য আব্দুস সালামকে বিএনপি নেতার দায়ের করা সেই বিস্ফোরক মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘদিনের পুরনো এই মামলাটি হঠাৎ কেন সামনে এল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।পুলিশের ভাষ্য ও ভিন্ন তথ্যতবে ঘটনা সম্পর্কে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ এহতেশামুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে ভিন্ন তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম থানার সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন, যা কর্তব্যরত পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই সন্দেহজনক আচরণের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জনমনে প্রশ্ন ও ভবিষ্যৎসালিশ করতে গিয়ে আটকের দাবি এবং পুলিশের সন্দেহজনক ঘোরাফেরার তত্ত্ব—এই দুইয়ের মাঝে প্রকৃত সত্য কী তা তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং শীঘ্রই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে। স্থানীয় রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির এই নেতার আটক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। আগামী দিনগুলোতে এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি। আপাতত থানা হাজতেই কাটছে এই জনপ্রতিনিধির সময়।

আরও পড়ুন