সর্বশেষ
Loading breaking news...

আন্তর্জাতিক চাপে ১৭০০ দিন পর কারামুক্ত ভেনেজুয়েলার অধিকারকর্মী জাভিয়ের তারাজোনা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ভেনেজুয়েলার অন্ধকার কারাগার থেকে অবশেষে মুক্তি পেলেন দেশটির সুপরিচিত মানবাধিকারকর্মী জাভিয়ের তারাজোনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র চাপের মুখে ভেনেজুয়েলা সরকারের রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার সাম্প্রতিক ঘোষণার ফলস্বরূপ তিনি কারামুক্ত হলেন।

পরিবারের স্বস্তি

তারাজোনার মুক্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবার ও সমর্থক মহলে আনন্দের ঢেউ লাগে। তারাজোনার ভাই জোসে রাফায়েল তারাজোনা রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি আবেগপূর্ণ পোস্টে লেখেন, ‘১,৬৭৫টি দিন, অর্থাৎ প্রায় চার বছর সাত মাস দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেই দিনটি এল। আমার ভাই জাভিয়ের তারাজোনা মুক্ত!’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একজন মানুষের মুক্তি বাকি সবার মনে আশার আলো সঞ্চার করে।’

গ্রেপ্তারের কারণ

জাভিয়ের তারাজোনা ভেনেজুয়েলার একটি অগ্রগণ্য মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান। ২০২১ সালের জুলাই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে তিনি রাজধানী কারাকাসের একটি কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর সংগঠন গতকাল, রোববার, এক বিবৃতিতে জাভিয়ের তারাজোনার কারামুক্তির খবর নিশ্চিত করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে মূলত সরকারের সমালোচনার জন্যই বন্দি করা হয়েছিল।

গণমুক্তির প্রেক্ষাপট

তারাজোনার মুক্তি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি প্রক্রিয়ার বৃহত্তর অংশ। ভেনেজুয়েলার অপর একটি অধিকার সংগঠন, ‘ফোরো পেনাল’, জানিয়েছে যে তারা গত ৮ জানুয়ারি থেকে তিন শতাধিক রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি পাওয়ার ঘটনা যাচাই করে দেখেছে। এই পটভূমিতে গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাধারণ ক্ষমা আইনের ঘোষণা দেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব

এই ঘোষণার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রদ্রিগেজ সরকারের এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল, যখন মাত্র চার সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ করা এবং দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার আনার জন্য কারাকাসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক এই চাপেই সরকার নমনীয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন